Tajuddin Ahmad’s Speech at Shiliguri conference June 1971

[message type=”custom” width=”100%” start_color=”#FFFCB5″ end_color=”#d9ff80″ border=”#BBBBBB” color=”#333333″]

Tajuddin Ahmad’s Speech at Shiliguri conference of M.N.A, M.L.A (Members of National and Legislative Assembly),Officials of Bangladesh Government and Armed Forces. His speech, delivered in June, 1971, helped clarified all confusions and set the tone for Bangladesh war of Liberation, i.e unconditional victory  of Bangladesh and return of  Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman on the soil of liberated Bangladesh.

(শিলিগুড়ী সম্মেলনে তাজউদ্দীন আহমেদের ভাষণ)
“আমরা স্বাধীনতা চাই। স্বাধীনতা পেলেই বঙ্গবন্ধুকে আমাদের মাঝে পাব। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যদি খোদা না করুন, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুহয় পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে, তাইলে বঙ্গবন্ধুশহীদ হয়েও স্বাধীন বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসে অমর ও চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন। তিনি একটি নতুন জাতির জনক হিসেবে ইতিহাসে স্বীকৃত হবেন। ব্যক্তি মুজিব, ব্যক্তি নজরুল, তাজউদ্দীন, কামরুজ্জামান কেউ হয়ত বেঁচে থাকবেন না। একদিন না একদিন আমাদের সকলকেই মরতে হবে। বঙ্গবন্ধুকেও মরতে হবে। আমরা চিরদিন কেউ বেঁচে থাকব না।

আল্লাহর পিয়ারা দোস্ত, আমাদের নবী(সঃ) ও চিরদিন বেঁচে থাকেন নি। কিন্তুতিনি তাঁর প্রচারিত ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় আজ পরম শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। তেমনি, আমরা যদি বাঙ্গালীকে একটি জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা করতে পারি, আমরা যদি বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক আরেকটি রাষ্ট্রের মানচিত্র স্থাপন করতে পারি, তাইলে সেই স্বাধীন জাতি এবং নতুন রাষ্ট্রের মানচিত্রে বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবর রহমান প্রভাত সূর্যের মত উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। আমরা যখন বাংলাদেশ ছেড়ে যার যার পথে ভারত চলে আসি, তখন কিন্তুজানতম না বঙ্গবন্ধুজীবিত আছেন, না শহীদ হয়েছেন। ভারতে এসে দেখা না হওয়া পর্যন্ত আমিও জানতাম না সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী কিংবা হেনা সাহেব (কামরুজ্জামান)  জীবিত আছেন কিনা। আমি নিজেও বাঁচতে পারব এ কথাটি একবারও ভাবতে পারিনি। এখানে আসার পর যতন পর্যন্ত পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ঘোষনা না করেছে যে বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিব তাদের কাছে বন্দী আছেন, ততন পর্যন্ত আমি মনে করতে পারিনি তিনি জীবিত আছেন। পাকিস্তানি জল্লাদ বাহিনীর কামান, বন্দুক, ট্যাঙ্ক,  মেশিনগানের গোলাগুলির মধ্যে বঙ্গবন্ধুআর বেঁচে নেই একথা ভেবে এবং সম্ভবত মেনে নিয়েই তো আমরা নিজ নিজ প্রাণ নিয়ে চলে এসেছি।

বঙ্গবন্ধুমুজিবের ছায়া হয়ে তার পাশে আজীবন রাজনীতি করেছি, জেলে থেকেছি। তিনি আমাদের শিা দিয়েছেন দেশের জন্য জীবন দিতে। তিনি নিজেও বারবার বাংলার পথে প্রান্তরে বলেছেন, বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য জীবন দিতে তিনি কুন্ঠিত নন। আজ যদি বঙ্গবন্ধুমুজিবের জীবনের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পাই, তাহলে সেই স্বাধীন বাংলাদেশের মধ্যেই আমরা পাব বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবকে। আমি নিশ্চিত,  বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিব কিছুতেই পাকিস্তানিদের কাছে তার নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে আপোষ করবেন না, আত্মসমর্পন করবেন না এবং করতে পারেন না। এটাই আমার প্রথম ও শেষ বিশ্বাস।

বাংলাদেশ যদি আজ এত রক্তের বিনিময়েও স্বাধীন না হয়, তাহলে বাংলাদেশ চিরদিনের জন্য পাকিস্তানি দখলদারদের দাস ও গোলাম হয়ে থাকবে। পূর্ব পাকিস্তানীর মর্যাদাও বাঙ্গালী কোনদিন আর পাকিস্তানীদের কাছে পাবে না। প্রভুভক্ত প্রাণীর মত আমরা যতই আনুগত্যের লেজ নাড়ি না কেন, পাকিস্তানীরা পূর্ব পাকিস্তানীদের আর বিশ্বাস করবে না, বিশ্বাস করার কোন প্রশ্নই উঠে না। আর এই অধিক্তৃপূর্ব পাকিস্তানে যদি বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রেসেডিন্ট হয়েও আসেন, তবুতিনি হবেন পাকিস্তানের গোলামীর জিঞ্জির পরান এক গোলাম মুজিব।

বাংলাদেশের জনগণ কোনদিন সেই গোলাম শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিব বলে গ্রহন করবে না, মেনে নিবে না। আমার স্থির বিশ্বাস বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবর পাকিস্তানীদের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। বাঙ্গালী জাতির গলায় গোলামীর জিঞ্জির পরিয়ে দেবার পরিবর্তে তিনি নিজে বরং ফাঁসীর রজ্জুগলায় তুলে নেবেন হাসিমুখে। এটাই আমার বিশ্বাস। বঙ্গবন্ধুসম্পর্কে এটাই আমার ঈমান। এ মূহর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছাড়া, আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আর কোন বিকল্প নেই। বাঙ্গালীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই, বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য স্বাধীনতা চাই। স্বাধীনতা ছাড়া বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবর রহমানের আর কোন অস্তিত্ব নেই, আর পরিচয় নেই। স্বাধীন বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিব। পরাধীন বাংলায় বঙ্গবন্ধুফিরে আসবেন না। গোলামের পরিচয় নিয়ে বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবর রহমান অধিকৃত পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসবেন না কোন দিন। জীবনের বিনিময়ে হলেও আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করব। পরাধীন দেশের মাটিতে আমার লাশও যাতে ফিরে না যায় সে জন্য জীবিতদের কাছে আর্জি রেখে যাই। আমার শেষকথা, যে কোন কিছুর বিনিময়ে আমরা বাংলার মাটিকে দখলদার মুক্ত করব। বাংলার মুক্ত মাটিতে মুক্ত মানুষ হিসেবে বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবকে আমারা ফিরিয়ে আনব। মুজিব স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসবেন এবং তাকে আমরা জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনব ইনশাল্লাহ। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবর রহমানের প্রাণ রার জন্য বিশ্ব মানবতার কাছে আমরা আকুল আবেদন জানাচ্ছি”।

This speech is included in the article written by advocate Asadullah Badal.

He concludes:

প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের এই আবেগময়ী ভাষণের পর জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধুস্লোগানে শিলিগুড়ি কনফারেন্স গর্জে উঠেছিল। এভাবেই নিষ্পত্তি হয় আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের একটি বিভ্রান্তিমূলক ও আত্মঘাতী ষড়যন্ত্রের।

( ভাষণ সংগ্রহ একাত্তরের রনাঙ্গন অকথিত কিছুকথা, লেখক: নজরুল ইসলাম)

[/message]