A Clarion Call to Posterity in Fulfilling Tajuddin’s Dream.News Bangla Feature Story

 

 

[message type=”custom” width=”100%” start_color=”#FFFCB5″ end_color=”#d9ff80″ border=”#BBBBBB” color=”#333333″]

শারমিন আহমদের সাক্ষাতকার
রায়হান আহমদ   
শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০০৮
 (ছবি: তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে প্রকাশিতব্য ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া)ইতিহাস সচেতন বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করে এদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অনবদ্য সাহসী নেতৃত্বের জন্য। স্বাধীনতার ৩৭ বছর পর ইতিহাসের পাতা খুঁড়ে এই ক্ষণজন্মা নেতার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাবার বিরল সুযোগ সৃস্টি করেছেন তাঁর কন্যা শারমিন আহমদ। এই লেখার শেষে শারমিন আহমদের সাম্প্রতিক ভিডিও সাক্ষাতকারটি ভয়েস অব আমেরিকার সৌজন্যে যোগ করা হলো। নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে শারমিন আহমদ গণনেতা তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে প্রচুর প্রামাণ্য তথ্য ও চিত্র আমাদের পাঠকদের জন্য পাঠান।

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের জন্ম শীতলক্ষ্যা বিধৌত গাজীপুর জেলার কাপাসিয়ায় ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই। ছাত্র অবস্থা থেকেই তিনি জড়ান রাজনীতির সাথে। ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন এবং ১৯৬৬ সালে জেলে বসে পরীক্ষা দিয়ে এলএলবি পাশ করেন। তিনি পবিত্র কোরআনে হাফেজ ছিলেন। তাঁর ধর্মবোধ ধর্মীয় সহনশীলতার অনুশীলনকে প্রবলতর করে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তিঁনি সব ধর্মের পবিত্র বাণী প্রচারের ব্যবস্থা করেন। আজকের অসহিষ্ণু পরিবেশে এধরণের সহনশীলতার দৃস্টান্ত অনুপ্রেরণার উৎস ও শিক্ষণীয় দৃস্টান্ত।

চল্লিশের দশকে প্রথম অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক সংগঠন গণতান্ত্রিক যুবলীগ গঠনে তিনি ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা। ষাটের দশকে আওয়ামী লীগ যখন বঞ্চিত ও নিপীড়িত বাঙ্গালীর কন্ঠস্বর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে থাকে তাজউদ্দীন আহমদ তখন তার পুরোধায় ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের পথে পাকিস্তানী জান্তার রোষে পড়ে তিঁনি বারবার কারাবরণ করেন। আর দু:খজনক সত্য হচ্ছে, পঁচাত্তরের সামরিক অভ্যূত্থানের পর স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে তিনি কারাবরণ করেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরে ঢাকার কারাগারে তিঁনি নির্মমভাবে শহীদ হন। বাংলাদেশ হারাল তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তানকে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার অসমসাহসী অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সতর্ক চোখকে ফাঁকি দিয়ে তিঁনি দুর্গম পথ ধরে চলে যান কুস্টিয়াতে। এপ্রিলের ১০ তারিখে নিজের হাতে লেখা প্রথম বেতার ভাষণ জাতির উদ্দেশ্যে দেন। কুস্টিয়ার মেহেরপুরে অস্থায়ী সরকারের প্রধান হিসেবে তিঁনি দৃঢ়তার সাথে যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার নেতৃত্ব দেন। মু্ক্তিযুদ্ধকালে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার হাত বাড়াতে তিঁনি প্রতিবেশী ভারতের প্রতি আবেদন জানান।

(শারমিন আহমদ তাঁর বাবার স্মৃতিতে গোলাপ ফুলের চারা লাগাচ্ছেন। পাশে ক্যালিফর্নিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল আহমদ ও মিসেস স্বপ্না হক)

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী জানাতে তাঁর কন্যা শারমিন আহমদ প্রামাণ্য তথ্য ও চিত্র দিয়ে সাজাচ্ছেন নুতন ওয়েবসাইট। সাইটটির উদ্বোধন হওয়ার কথা এ বছরের জুলাই মাসে। ভয়েস অব আমেরিকায় শারমিন আহমদের সাক্ষাতকারের ভিডিওটি দেখুন। রক্তঝরা একাত্তরের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে অসহায় জনতার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। তাঁর অবদান ও আত্মত্যাগ এদেশের অগ্রযাত্রায় সবচেয়ে বড়ো প্রেরণা। কারাবন্দী তাজউদ্দীন আহমদ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কারাগারের মাটিতে ফুলের বাগান তৈরী করে যান। কিন্তু এদেশকে ফুলে ফুলে ভরে সাফল্যময় করার স্বপ্ন অসমাপ্ত রেখেই তিঁনি বিদায় নিলেন। সেই স্বপ্নপূরণের দায়ভার আমরা উত্তরসূরীরা কি অস্বীকার করতে পারি?

সর্বশেষ আপডেট ( রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০০৮ ) 

[/message]